শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নামায আদায়ের নিয়ম

নামায আদায়ের নিয়ম

নামাযে পালনীয় ফরজ ওয়াজিব মুস্তাহাবসহ, নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে কাজ গুলো যেভাবে আদায় করতে হয় তার বিস্তারিত কিতাবি দলিলসহ ধারাবাহিক বর্ণনা।   

১.নামায পড়ার জন্য পবিত্র স্থানে দাড়ানো ফরজ।

২.কেবলামুখি হয়ে দাড়ানো ফরজ। ৩.দুইপা সোজা করে কেবলামুখী করা সুন্নত।  

৪.দুই পায়ের মাঝখানে হাতের মিলিত চার আঙ্গুল পরিমান ফাঁকা রাখা মোস্তাহাব।   (আহসানুল ফাতাওয়া ৩য়)

৫.নামাযের নিয়ত বাধার পূর্ব পর্যন্ত হাত ছাড়া রাখবে, হাত বাঁধা মাকরুহ।

৬.উভয় পায়ের উপর সমান ভর করে দাঁড়াবে, এক পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর করে দাড়ানো মাকরুহ (ফাতাওয়ায়ে শামী১ম)

 ৭.নিয়ত করা ফরজ। নিয়তের ক্ষেত্রে প্রচলিত লম্বা চওড়া বাক্য বলা নিষপ্রয়োজন। ফরজের ক্ষেত্রে শুধু কোন ওয়াক্তের ফরজ তার উল্লেখ এবং সুন্নত নফলের ক্ষেত্রে শুধু নামাজের উল্লেখই যতেষ্ট,(আহসানল ফাতাওইয়া৩য় খন্ড) নিয়ত মুখে উচ্চারন করা উত্তম।

৮.নিয়ত আরবিতে বলা ভাল, (বেহেশতি জেওর) আরবিতেই নিয়ত করতে হবে এমন ভাবা টিক নয়, নিয়ত বাধার সময় কান প্রযন্ত হাত উঠানো সুন্নতে মুয়াক্কাদা, মহিলাগণ কাপড়ের মধ্য থেকে হাত বের করবে না এবং সিনা পর্যন্ত হাত উঠাবে, এমনভাবে যেন আঙ্গুলের অগ্রভাগ কাধ পর্যন্ত উঠে। (শরহে মুনিয়া) হাতের আঙ্গুল সমুহ কে মিলাবে না বরং আঙ্গুল সমুহের মাঝে স্বাভাবিক ফাঁকা রাখবে আর এটাই সুন্নত।

৯.পুরুষের জন্য দুই বৃদ্বা আঙ্গুলের অগ্রভাগ কানের লতির সাথে লাগানো মোস্তাহাব। আল্লাহু আঁকবার বলে নিয়ত বাধবে, এই তাকবির বলা ফরজ এটাকে তাকবীরে তাহরিমা বলে।   

১০.হাত উঠিয়ে কানের লতির সাথে বৃদ্বা আঙ্গুল স্পর্শ করার পর আল্লাহু আঁকবার বলে শুরু করা উত্তম। (১১)হাত বাধা সম্পূর্ণ হবে আল্লাহু আকবার বলাও শেষ হবে।

(১২)কান থেকে হাত সোজা বাধার দিকে নিয়ে যাবে,হাত সোজা নীচের দিকে ছেড়ে দিবে না বা পিছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।  

(১৩)তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় স্বাভাবিক ভাবে সোজা দাঁড়ানো থাকবে মাথা নিচের দিকে ঝুকাবে না, নাভির নীচে হাত বাধা সুন্নাত।

(১৪)ডান হাতের তালু বাম হাতের পীঠের উপর রাখবে, ডান হাতের বৃদ্বা ও কনিষ্টা আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা সুন্নত,ডান হাতের অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিক ভাবে রাখা থাকবে।   

(১৫)মহিলাগণ সিনার উপর ডান হাতের তালু বাম হাতের পীঠের উপর রেখে নিয়ত বাঁধবে, এটা সুন্নত উভয় হাত পেটের সাথে চেপে ধরে রাকবে,তাহলে অলসভাব আসবে না, ছানা পড়া সুন্নত ছানা আউযু বিল্লাহি পড়া সুন্নত। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়া সুন্নত।  

(১৬)সুরায়ে ফাতিহা পড়া ওয়াজীব। সুরা ফাতিহার প্রত্যেক আয়াতে ওয়াকফ করে পড়া উত্তম, সুরা ফাতিহার শেষে আমিন পড়া সুন্নাত, আমিন আস্তে বলা সুন্নাত।  (আদ্দুররুল মুখতার ১ম খন্ড) সুরা/কিরাত মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ্‌ পড়া মুস্থাহাব। তারপর সুরা কেরাত মিলানো ওয়াজীব।                             

(১৭)সামনের দিক থেকে কোন সুরা কেরাত পড়া, পেছন দিক থেকে না পড়া এই  তারতিব রক্ষা করা ওয়াজীব। এর বিপরিত করলে নামায মাকরুহ হবে। তবে সাজদায়ে সহু ওয়াজীব হবে না, অধিক সহীহ মতানুসারে এতটুকু শব্দে কিরাত পড়া যেন নিজে শুনতে পায়। তাকবিরের ক্ষেত্রেও এ মাসয়ালা প্রযোজ্য।

(১৮)রুকুতে যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলা সুন্নত, আল্লাহু আকবার বলে হাত রুকুতে হাটুর দিকে নিয়ে যাবে, হাত সোজা ছেঁড়ে দিবে না বা পেছনের দিকে ঝাড়া দিবে না, রুকুর জন্য ঝোঁকার সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলা শুরু করবে এবং রুকুতে সোজা স্থির হওয়ার সাথে বলা শেষ হবে,এটা সুন্নাত তরীকা। রুকতে পীঠ বরাবর সোজা রাখা সুন্নত, কোমর এবং মাথা এক বরাবর রাখবে সামনে পেছনে ঝুকাবে না। পাজর থেকে বাহু কে পৃথক রাখবে, শক্তভাবে হাটু ধরা সুন্নত।

(১৯)রুকুতে নজর উভয় পায়ের পাতা বা পায়ের আঙ্গুলের প্রতি নিবিদ্দ রাখা আদব, পুরুষগন রুকুতে দুই টাকনু কে দাড়ানোর অবস্থার মত পৃথক রাখবে এবং নারীগণ মিলিয়ে রাখবে (বেহেশ্তি জেওর) রুকুতে সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম পড়া সুন্নাত। এই তাসবিহ তিন/পাচবার/সাত এরুপ বেজুর সংখায় পড়া সুন্নাত।রুকু থেকে সোজা স্থির হয়ে দাড়ানো ওয়াজিব, সোজা হয়ে দাড়ানোর পর রাব্বানা লাকাল হামদ বলা সুন্নত। সেজদায় যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবর বলা সুন্নত। সাজদায় জমিনে কপাল লাগানর সাথে সাথে আকবার বলা শেষ করবে এটা সুন্নাত তরীকা।

(২০)সেজদায় যাওয়ার সময় উভয় হাঁটো একত্রে তার পর উভয় হাত এক সাথে তার পর নাক এবং কপাল জমিনে রাখবে এই তারতিব সুন্নত, (আহসানুল ফাতাওয়া৩) হাটু জমীন স্পর্শ করার আগে কোমর মাথা সামনের দিকে ঝোঁকানো মাকরুহ (আহসানুল ফাতাওয়া৩য়) সাজদায় উভয় হাতের মাঝে চেহারার চওড়া পরিমাণ ফাঁকা রাখবে। উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুল খুব মিলিয়ে রাখা ও কেবলামুখি রাখা সুন্নত। উভয় হাতের মধ্যখানে বৃদ্ব আঙ্গুলদ্বয়ের নখ বরাবর নাক রাখবে।

(২১)নজর নাকের উপর রাখা আদব, দুই পায়ের টাকনো কাছাকছি রাখবে মিলাবে না। উভয় পা খাড়া রাখবে, পায়ের আঙ্গুলসমুহ জমিনের সাথে চেপে ধরবে এবং আঙ্গুল এর মাথা কেবলামুখি করে রাখবে।

(২২)কপাল ও নাক জমিনের সাধে লাগিয়ে রাখা ওয়াজীব (আহসানুল ফাতাওয়া৩)   

(২৩) পুরুষগণ পেট রান থেকে বাহু পাঁজর থেকে এবং কনুই জমিন থেকে পৃথক রাখবে, মহিলাদের মিলানো থাকবে, মহিলাদের উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে।(২৪)সাজদায় গিয়ে বলবে সোবহানা রাব্বিয়ালআয়লা তিন/সাত বার বলবে। আল্লাহু আঁকবার বলে সাজদা থেকে উঠা সুন্নত,উঠার সময় প্রথমে কপাল তার পর নাক  তার পর হাত জমিন থেকে উঠানো সুন্নাত।

(২৫)বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নত।মহিলাগণ দুই নিত্মবের উপর বসবে,২৬,বসার সময় পুরুষের জন্য ডান পা সোজা খাড়া রাখা সুন্নত। বসার সময় হাতের আঙ্গুলগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁক রাখা মুস্তাহাব,(শরহেমুনিয়া) মুহিলাগণ মিলিয়ে রাখবে,বসার সময় নজর কোলের উপর নিব্দ্ব রাখবে,দুই সাজদার মাঝে স্থি্র হয়ে বসা ওয়াজীব।

২৭,দ্বিতীয় সেজদা থেকে উঠার সময় আল্লাহু আঁকবার বলে উঠা সুন্নাত,২য় রাখাতে ২য় সাজদা থেকে উঠে বসে তাশাহুদ পড়া ওয়াজীব,তাশাহুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নত,দুআয়ে মাছুরা পড়া মুস্থাহাব,আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, বলে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ওয়াজীব,(আহসানুল ফাতাওয়া ৩য়খণ্ড)

(২৮) সালাম ফিরানোর সময় নজর কাধের উপর রাখা মুস্থাহাব, উভয় সালাম চেহারা কেবলামুখি থাকা আবস্থায় শুরু করবে এবং কাঁধে নজর করে শেষ করবে, তিন/চার রাকাত বিশিষ্ট নামায হলে দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠকে শুধু তাশাহুদ পড়ে আল্লাহু আকবর বলে তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠে যাবে। তিন/চার রাকাত বিশিষ্ট নামায ফরয হলে তৃতীয়/চতুরথ রাকাতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়া উত্তম।ফরয ব্যতীত অন্যান্য নামাযে ৩য়/৪থ রাকাতে সুরা /কিরাত মিলানো ওয়াজীব।

(২৯)শেষ বৈঠকে তাশাহুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নাত এবং দুআয়ে মাছুরা পড়া মুস্থাহাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here