হজ্জ ও ওমরাহ্ এর ধারাবাহিক আলোচনা (প্রথম পর্ব)

প্রথম পর্বঃ- হজ্জ ও ওমরাহ্
সামনে আসছে হজ্জের মৌসুম। যাদের উপর হজ্জ ফরয হয়েছে, সব রকম দিধা-দন্ধ ছেড়ে দিয়ে, সব রকম মনের ওয়াছওয়াছা ছেড়ে দিয়ে, সব রকম ভ্রান্ত ধারণা ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে হজ্জের পাকা-পোক্ত নিয়ত করে নিতে হবে। ওয়াছওয়াছা এজন্য বললাম যে, হজ্জের ব্যাপারে অনেকের মনে অনেক রকম ওয়াছওয়াছা সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে মানুষের সবচেয়ে বড় ওয়াছওয়াছা এই যে, সামনে করব। সামনে করব- এটা হল সবচেয়ে বড় ওয়াছওয়াছা। আমাদের চোখের সামনে বহু লোক সামনে করব, সামনে করব- এই করতে করতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছেন; হজ্জ করার নসীব তাদের হচ্ছে না। অথচ হজ্জ শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয।


এটা ইসলামের পাঁচ বুনিয়াদের একটা । তাই হজ্জ ফরজ হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ ফরজ হজ্জ আদায় করতে বিলম্ব করলে যত বিলম্ব করতে থাকব, ততই আমার গোনাহ্ হতে থাকবে । আর খোদা না খাস্তা এই বিলম্ব করার কারণে যদি আমি হজ্জ না করে মারা যাই, আর মারা যাবনা এই গ্যারান্টি কে দিয়েছে? যদি হজ্জ না করে মারা যাই , তাহলে আমার ব্যাপারে রাসুল সা. কত শক্ত কথা বলেছেন! তিনি বলেছেনঃ

من مات ولم يحج وعليه الحج فليمت إن شاء يهوديا وأن شاء نصرانيا. (مشكوة عن الدارمي )

অর্থাৎ , হজ্জ ফরয হওয়ার পরেও বিনা ওজরে হজ্জ না করে যে মারা যায়, সে ইয়াহুদী হয়ে মারা যাক বা নাসারা হয়ে মারা যাক তাতে আমার কোন পরওয়া নেই। রাসূল সা. -এর একজন উম্মত ইয়াহুদী হঢ়ে মারা যাবে কিংবা খৃষ্টান হয়ে মারা যাবে, আর রাসূল সা. -এর মনে তার ব্যাপারে দরদ আসবে না -এটাতো হতে পারে না। তাহলে হজ্জ না করে মারা যাওয়া লোকদের ব্যাপারে কত শক্ত মনোভাব নিয়ে রাসূল সা. এ একথাটি বলেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, হজ্জ ফরয হওয়ার পর হজ্জ না করা কত বড় মারাত্নক গোনাহের কাজ! আর যদি রাসূল সা. এর কথানুযায়ী হজ্জ ফরয হওয়ার পর হজ্জ না করে যাওয়ার কারণে সত্যিই ইয়াহুদী বা নাসারাদের তালিকায় নাম উঠে যায়, তাহলে তো আর উপায় থাকবে না!

যাইহোক, যে কথা বলতেছিলাম হজ্জ না করার পেছনে অনেকের এই ওয়াছওয়াছা কাজ করে যে, আগামীতে করব।
অনেকের মনে দ্বিধা-দন্ধ থাকে যে, হজ্জ করতে গেলে এত বিরাট অংকের টাকা খরচ হয়ে যাবে! কিছু কিছু লোক তো এমন আছে, যারা এটাকেই হজ্জের বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করায় যে, হজ্জের পেছনে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়ে যায়, যা আমাদের মত গরীব দেশের অর্থনীতি সামাল দিতে পারে না। কুরবানীর সময়ও এসব লোকেরা এই জাতীয় কথা বলতে থাকে যে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কুরবানীর পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে! আবার এই একদিনে এত সংখ্যক প্রাণী জবাই হচ্ছে, যা সারা বৎসর জবাই হলে সারা বৎসরই মানুষের পুষ্টি যোগান দিতে পারত। হজ্জ ও কুরবানীর প্রশ্ন আসলে অর্থনীতির জন্য তাদের এত মায়াকান্না হয়।

অথচ খেলা-ধুলা, নাচ-গান ইত্যাদি নন প্রভাকটিভ খাতে এর চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু সেজন্য তাদেরকে কাঁদতে দেখা যায় না। আসলে ইসলামের বিরোধিতা করার জন্যই এই সব যুক্তি দাঁড় করানো হয়। কেউ কেউ নাউযুবিল্লাহ্ এরকমও বলে যে, হজ্জতো একটি মেলা। নানা দেশ বিদেশের নারী পুরুষের একটি জমজমাট মেলা। এটা হলো হজ্জের প্রতি মানুষকে বিতশ্রদ্ধ করে তোলার একটা শয়তানী বক্তব্য। এ ধরণের বক্তব্য দিলে ইসলামের গুরুত্ব্যপূর্ণ ইবাদত হজ্জকে অবমাননা করা হয়। এ ধরনের বক্ত্যব্য কুফরীর পর্যায়ে চলে যায়। আল্লাহ আমাদেরকে হিফাজত করুন।


হজ্জের ব্যাপারে আমরা অনেকে আরও অনেক ধরণের ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে রয়েছি। অনেকের ধারণা ছেলে-মেয়ে বিবাহ না দিয়ে হজ্জে যাওয়া যায় না। তারা বলে ছেলে-মেয়ে উপযুক্ত হয়ে গেছে, ওদেরকে বিবাহ না দিয়ে কিভাবে হজ্জে যাই? এভাবে অনেকে হজ্জে যাওয়াকে পিছিয়ে দেয়। মনে রাখতে হবে ছেলে-মেয়েকে বিবাহ দেয়া এক কর্তব্য, হজ্জ করা আরেক কর্তব্য। এক কর্তব্যের অজুহাতে অরেক কর্তব্যকে পিছিয়ে দেয়া যাবে না। ছেলে মেয়ের বিবাহ আগে আর হজ্জ পরে – এমন কোন কথা নেই। হজ্জ ফরয হলে হজ্জ করে নিব। ছেলে মেয়ের বিবাহের যখন ব্যবস্থা হবে তখন তাদেরকে বিবাহ দিব। ছেলে-মেয়েকে বিবাহ দেয়ার জন্য হজ্জকে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।

ছেলে-মেয়ে বিবাহের উপযুক্ত হয়ে গেলে তাদেরকে বিবাহ না দিয়ে আমরা নামায পড়ছি, রোযা রাখছি, চাকুরী করছি, ব্যবসা-বাণিজ্য করছি। তাদেরকে বিবাহ নি দিয়ে এগুলো যখন করতে পারছি, তখন হজ্জ কেন করতে পারবো না। ছেলে-মেয়ের বিবাহের উপর হজ্জকে ঝুলিয়ে রাখার বৈধতা শরীয়তে নেই।

দ্রঃ হজ্জ ও ওমরাহ্ পর্ব -১ ভালো ভাবে বুঝতে হলে দ্বিতীয় পর্বের লেখাটিও পড়তে হবে। অন্যথায় গুরুত্ব্যপূর্ণ এ বিষয়টা মিস করবেন।

চলবে,

Previous articleইবলিসের মরণ হবে যেভাবে – বিস্তারিত দেখুন ।
Next articleহজ্জ ও ওমরাহ্ এর ধারাবাহিক আলোচনা (পর্ব -২)
নামঃ- নাজমুল হাসান সাকিব বিন মুজিবুর রহমান স্থায়ী ঠিকানাঃ- বাহেরবালী, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানাঃ- বসুন্ধরা, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯ পড়াশোনাঃ- বাহেরবালী দারুল উলূম নূমানিয়া মাদরাসা, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। (নূরানী টু হেদায়াতুন্নাহ্) জামিয়াতুস সালাম মদিনাবাগ, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। (কাফিয়া-শরহে বেকায়া) মারকাজুল উলূম আল-ইসলামিয়া মান্ডা, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। আরবী স্নাতক ৪র্থ বর্ষ মদিনাতুল উলূম বসুন্ধরা মাদরাসা ( হেদায়া) মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। (এম এ- মাস্টার্স) পেশাঃ- পড়াশোনা (ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো অধ্যায়ণরত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here