দাওয়াত ও তাবলিগ নিয়ে প্রাথমিক কিছু পর্যালোচনা

কী এই দাওয়াত?

আমরা সকলে দাওয়াত ও তাবলীগের নামে এখানে সমবেত হয়েছি। এ কাজের নেসবতে এখানে জমায়েত হয়েছি। জানার বিষয় হলো দাওয়াত ও তাবলীগ কী? এই “তাবলিগী জামাআত” আমাদের কাছে কী চায়?
হযরতজী ইউসুফ রহ. একটি ছোট্ট অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দে এ কাজের পরিচয় তুলে ধরেছেন।তিনি বলেছেন- দাওয়াতের মেহনত হলো এমন এক মেহনত, যদি কোন কাফের রাষ্ট্রেও এ মেহনত চলতে থাকে, তা হলে সেখানেও দ্বীন যিন্দা হয়ে যাবে । আর যদি কোন মুসলিম দেশেও এ মেহনত চালু না থাকে, তাহলে সেখানে দ্বীন বরবাদ হতে থাকবে।

দাওয়াত কোন সাংগঠনিক তৎপরতা নয়

দাওয়াতের এই মেহনত কোন দল বা সংগঠন নয়। আর দাওয়াতের এ কাজ কোন সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়। দল, সংগঠন, জামাআত- এগুলো তো বিভক্তি সৃষ্টিকারী শব্দ; যা জাতিকে টুকরো-টুকরো করে দেয়। উম্মতকে ভেঙ্গে খান খান করে দেয়। নবিজি সা. তো কোন দল বা জামাআত তৈরির জন্য প্রেরিত হননি। তিনি তো উম্মত তৈরি গেছেন। মুসলিম উম্মাহ। “মুসলিম” কোন সংগঠনের নাম নয়; বরং একটি উম্মতের নাম। আর দাওয়াতের এ মেহনত হচ্ছে বিভক্ত মুসলামনদেরকে উম্মতে রুপান্তর করার মেহনত। যে ব্যক্তি একজন তাবলিগী হিসেবে, তাবলিগ জামাআতের একজন সদস্য হিসেবে, মানুষকে তাবলিগী বানানোর উদ্দেশ্যে কিংবা এই জামাআতের সদস্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাবলিগের কাজ করে, সে মূলত এই কাজ বুঝেইনি। এই ব্যক্তির পক্ষে দাওয়াতের মেহনত করা সম্ভব হবে না। বরং যারা এ মেহনত করতে চায়, তাদেরকে বৃহত্তর উম্মাহসুলভ মন-মানসিকতা নিয়ে মানুষকে উম্মাত বানানোর উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে- দল গড়ার জন্য নয়।

উম্মাত কাকে বলে?

বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে কেউ জিজ্ঞেস করল- উম্মাত কাকে বলে? তিনি বলেছিলেন- উম্মাত হলো সেই ব্যক্তি, যে লোকদের কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেয়, তাদেরকে দ্বীন শেখায়।
(তাফসিরে ইবনে বানীর, সূরা নাহলের ১২০ আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
সুতরাং এ মেহনত হচ্ছে মানুষকে উম্মাত বানানোর মেহনত।মানুষকে দ্বীন শেখানোর এবং দ্বীনের ওপর উঠানোর মেহনত। মানুষের মধ্যে দ্বীন শিখানোর জযবা পয়দা করার মেহনত।

এই মেহনতের ভিন্ন কোন নাম নেই

হযরত ইলিয়াস রহ. বলেছেন, লোকেরা আমার এই মেহনতকে “তাবলিগী জামাআত” বলে। এটা মানুষের দেয়া নাম। আমি এর কোন নাম দেইনি। আমি যদি এর কোন নাম রাখতাম, তা হলে তার নাম হতো “তাহরীকে ঈমান” তথা ঈমানী আন্দোলন। অর্থাৎ- এই মেহনত হলো এমন মেহনত, যা ঈমানের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার দ্বারা ঈমানের মধ্যে হরকত পয়দা হয়, ঈমানের মধ্যে শক্তির সঞ্চার হয়। যা মানুষকে নেক আমল ও ভালো কাজের দিকে নিয়ে যায়।
ঈমান কী জিনিস? ঈমানের হাকীকত কী? ঈমানের দাবি কী? ঈমান আমাদের কাছে কী চায়?; এই মেহনত হলো সেই বিষয়গুলো বোঝার মেহনত।
হযরত জ্বি ইউসুফ রহ. বলেছেন, – আমাদের এ মেহনতের উদ্দেশ্য হলো, প্রথমে প্রত্যেককেই নিজের ঈমান ঠিক করা। ঈমানকে মজবুত করা। নিজের ঈমানকে বানানো।
হযরত ইলিয়াস রহ. বলেছেন-


میں اس کام کو کار نبوت یقین کرتا ہوں


আমি এ মেহনতকে নবুওয়াতের কাজ বলেই বিশ্বাস করি। এ কাজের দ্বারা মানুষের ঈমানে, আমলে, আখলাকে তারাক্কী হতে থাকে।

দাওয়াতী কাজের সুফল

হযরত জ্বি রহ. বলেছেন, যখন রাসূল সা. দাওয়াতের মেহনত করেছেন, তখন নগদ দুটো ফায়েদা হয়েছিল।
প্রথমত, মানুষ কুফর-শিরকের অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোয় আসতে শুরু করে। দলে দলে মানুষ মুসলমান হতে থাকে।


দ্বিতীয়ত, যারা এই মেহনত করেছিলো, মেহনতের বরকতে তাদের ঈমান পাহাড়ের ন্যায় শক্তিশালী ও অনড় হয়ে গিয়েছিলো। নবীজির মেহনতে যখন পাক্কা ঈমানদারদের একটি জামাআত তৈরী হয়ে গিয়েছিলো, তখন দুনিয়ার কাফির-মুশরিকরা দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে আসতে শুরু করে।

দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দেওয়ার কুফল

পক্ষান্তরে উম্মাত যখন এ মেহনত করা ছেড়ে দিয়েছে, তখন তাদের নগদ দুটি ক্ষতি হয়েছে।
প্রথমত, এই মেহনত ছেড়ে দেওয়ার ফলে নিজেদের ঈমানের কেবল সুরত বাকী আছে, হাকীকত থেকে শূন্য হয়ে গেছে। রুপ বাকী আছে, রুহ চলে গেছে। এমনিভাবে আমালে, আখলাকে এবং দ্বীনের সর্বক্ষেত্রে মুসলমানরা অন্তসারশূন্য হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয়তা, নতুন করে মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার সিলসিলা বন্ধ হয়ে গেছে। বরং নতুন করে মুসলিম হওয়া তো দূরের কথা, বরং উল্টো মুসলামনদের মধ্যে দীন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

চলবে,

আমাদের ফেসবুক পেজে এ যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন এবং আমাদের কন্টেন্ট ভিডিও আকারে পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন।

সংক্ষেপে হজ আদায়ের পদ্ধতি-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here