দাওয়াত ও তাবলীগের ছয় নম্বারঃ পর্ব -১

দাওয়াত ও তাবলীগের ছয় নম্বারঃ পর্ব -১

نحمده ونصلي على رسوله الكريم
اما بعد قال الله تعالى : كنتم خير امه اخرجت للناس تامرون بالمعروف وتنهون عن المنكر…
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা অশেষ মায়া, দয়া এবং এহসান যে আমরা আশরাফুল মাকলুকাত এবং বিশ্বনবী (সাঃ) এর উম্মত। পৃথীবির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর শতকোটি দুরুদ ও সালাম। আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো দ্বীন। সারা বিশ্বের মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবী রাখা হয়েছে দ্বীনের মধ্যে। দ্বীন হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার হুকুম এবং নবী (সাঃ) এর সুন্নত। দ্বীনের উপর চলাই হচ্ছে মানব জীবনের আসল উদ্দেশ্য। সাহাবা আজমাইন গন হুজুর পাক (সাঃ) এর সাথে থাকার কারনে অনেক গুনে গুনান্নিত ছিলেন। তার মধ্যে কয়েকটি গুনের উপর মেহনত করে আমল করতে পারলে দ্বীনের উপর চলা সহজ।

গুনগুলো নিম্নে পেশ করা হলোঃ

(১) কালেমা (২) নামায (৩) ইলম ও জিকির (৪) ইকরামুল মুসলিমীন (৫) তাহসীহে নিয়্যত ও (৬) দাওয়াত ও তাবলীগ।

(১) কালেমাঃ

لا اله الا الله محمد رسول الله
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ” অর্থ- আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

উদ্দেশ্যঃ আমরা যা কিছু দেখি বা দেখি না, আল্লাহ ছাড়া সবকিছু মাখলুক (সৃষ্ট)। মাখলুক কিছুই করতে পারেনা আল্লাহর হুকুম ছাড়া। আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন মাখলুক ছাড়া। একমাত্র হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী তরীকায় রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও কামিয়াবী (সফলতা)।

লাভঃ আল্লাহ তায়ালা কুরআন পাকে ইরশাদ করেন,
বল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং সফলকাম হয়ে যাও। যে ব্যক্তি ইয়াক্বিন ও এখলাছের সাথে এ কালেমা একবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। যে ব্যক্তি এ কালেমা দৈনিক ১০০ বার পাঠ করবে, ক্বিয়ামতের দিন তার চেহারা পূর্নিমার চাদের মত উজ্জল হবে। যে ব্যক্তি ভালভাবে অজু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে কালেমা শাহদাত পাঠ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেন, সে ব্যক্তি যে কোন দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। এ কালেমার চেয়ে বড় আমাল আর নেই, এবং এ কালেমা পাঠকারীকে মাফ না করিয়ে ছাড়ে না। ঈমানের ৭৭ শাখার মধ্যে সর্বোত্তম হল কালেমা তাইয়্যেবা পাঠ করা। শ্রেষ্ট জিকির হলো কালিমা তাইয়্যেবা
لا اله الا الله محمد رسول الله
যে বান্দা অন্তরে বিশ্বাস রেখে এ কালিমার স্বাক্ষ্য দিয়ে ইন্তেকাল করল, সে নিশ্চই জান্নাতে প্রবেশ করবে। যখন কোন পাপী ব্যাক্তি এখলাসের সাথে এ কালেমা পাঠ করে, তার শত কোটি পাপ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের কোন সীমারেখা নেই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে পাক জাতের কসম, যার হাতে আমার জান, যদি সমগ্র আসমান যমীন এক পাল্লায় রাখা হয় আর কালেমা শাহাদাৎ অপর পাল্লায় রাখা হয়, তবে কালেমার পাল্লাই ভারী হবে। আল্লাহ করআনে কারীমে এরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও কিয়ামতের উপর এবং সৎ কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মহা পুরষ্কার। তাদের কোন ভয় নেই, তারা দুঃখিত হবেনা (আল-বাক্বারাহ-৬২)
আরও এরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের পূর্ন আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতসমূহে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে। সে তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে। আর এটাই মহা সফলতা (আন-নিসা-১৩)।
হাদীসের বর্ণনায় এসেছে,
بني الاسلام على خمس شهاده ان لا اله الا الله وان محمد رسول الله واقام الصلاه وايتاء الزكاه وحج البيت وصوم رمضان…
ইসলাম পাৎচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর কালেমা হচ্ছে মাঝের স্তম্ভ (বুখারী, মুসলিম)।
আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- তোমাদের সাথে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই (পৃথীবিতে) নেতৃত্ব (খেলাফত) দান করবেন (আন নূর-৫৫)।
যার অন্তর কালেমা (পড়ার) দ্বারা প্রশান্তি লাভ করবে, তাকে জাহান্নামের আগুন ভক্ষন করবেনা (বায়হাকী)।

হাসিলের তরীকাঃ এ কালেমা আমরা বেশী বেশী পাঠ করি এবং লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দেই ও দোয়া করি। এই কালেমাকে পৃথিবীর বুকে বুলন্দ করার জন্য কালেমার দাওয়াত নিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ি।

(২) নামাযঃ

উদ্দেশ্যঃ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়তেন এবং সাহাবারা যেভাবে নামায শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবে নামায পড়ার যোগ্যতা অর্জনে চেষ্টা করা।

লাভঃ আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,
ان الصلاه على المؤمنين كتابا موقوتا…
নিশ্চয় নির্দিষ্ট সময়ে নামায পড়া ফরজ (আন নিসা-১০৩)।
আরও এরশাদ হয়েছে,
استعينوا بالله بالصبر والصلاه ان الله مع الصابرين…
“হে ম’মিনগন, তোমরা ধৈর্য ও নামাযের দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন (বাক্বারাহ-১৫৩)
আরও এরশাদ হয়েছে,
قد افلح المؤمنون الذين هم في صلاتهم خاشعون…
অবশ্যই সফল হয়েছে মু’মিনগন, যারা বিনয় ও ধ্যান খেয়ালের সাথে নামায পড়ে (মু’মিনুন-১)।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পাৎচ ওয়াক্ত ফরজ নামায সময়ের প্রতি লক্ষ রেখে গুরুত্ব সহকারে আদায় করবে, আল্লাহ তাকে নিজ দায়িত্বে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে ব্যক্তি নামাযের ব্যাপারে যত্নবান হবে, আল্লাহ তার জিম্মাদারী নিবেন। ক্বেয়ামতের দিন সর্ব প্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে, যদি নামায ঠিক থাকে তবে বাকী আমলও ঠিক বলে গন্য হবে। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার চোখের তৃপ্তি হল নামায। যে ব্যক্তি ৪০ দিন তাকবীরে উলার সাথে জামাতের সহিত নামায পড়বে, সে দুটি পরোয়ানা লাভ করবেঃ (১) জাহান্নাম হতে রক্ষা এবং (২) মুনাফেকী হতে মুক্তি (তিরমিযি)। মুসলমান ও কাফের এর মধ্যে পার্থক্যকারী হলো নামায। যে ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে নামায ত্যাগ করলো সে কাফের হয়ে গেলো। নামায জান্নাতের চাবি। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায এহতেমাম ও গুরুত্ব সহকারে সময়ের প্রতি লক্ষ রেখে আদায় করবে তার জন্য পাঁচটি পুরষ্কারঃ (১) রিজিকের ফয়সালা, (২) কবরের আযাব মাফ (৩) আমলনামা ডান হাতে পাওয়া (৪) বিদ্যুতগতিতে পুলসিরাত পার এবং (৫) বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ।

হাসিলের তরীকাঃ পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করি। ওয়াজিব ও সুন্নতের এহতেমাম করি। কাযা নামাযগুলো সময় সুযোগমত আদায় করি। নফল নামায বেশী বেশী পড়ি। নামাযের লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দেই এবং সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য দোয়া করি।

(৩) ইলম ও যিকিরঃ

ইলমের উদ্দেশ্যঃ আল্লাহ তায়ালার কখন কি আদেশ নিষেধ করেছেন এবং হজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকা জেনে সে অনুযায়ী আমাল করার চেষ্টা করি।

ইলমের লাভঃ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন
اقرا وربك الاكرم.. الذي خلق الانسان مالم يعلم
“পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের মাধ্যমে। মানুষকে ঐসব বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানতোনা (আলাক-৩-৫)।
আরো বলেন,
انما يخشى الله من عباده العلماء
আল্লাহ তায়ালাকে তার সে বান্দাই ভয় করে যারা জ্ঞানী (আল ফাতির-২৮)।
আরও এরশাদ হয়েছে,
كل هل يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون
“হে নবী, বলুন, অন্ধ ও চক্ষুমান লোক কি কখনো এক হতে পারে? (রা’দ-১৬)।
যে ব্যাক্তি ইলমে দ্বীন হাসিল করার সময় মারা গেল, সে শহীদি মর্তবা লাভ করবে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন শিখেছেন ও অন্যকে শিক্ষা দিয়েছেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার জন্য কোন পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য বেহেস্তের রাস্তাকে সহজ করে দেন। ফেরেস্তারা তার সম্মানের জন্য পাখা বিছিয়ে দেন। আসমান জমীনের সমস্ত মাখলুক তার জন্য ইস্তেগফারের দোয়া করে। ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ফরজ। যে কুরআন শরীফ পড়বে এবং এর উপর আমাল করবে, তার পিতা মাতাকে কিয়ামতের দিন নূরের মুকুট পরানো হবো। ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা, হাজার রাকাত নফল পড়া হতে উত্তম (ইবনে মাযাহ)। যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পড়েছে, তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে, এর হালাল হারামকে সঠিকভাবে জেনেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন ১০ জনকে কবুল করবেন, যাদের জন্য দোযখ অবধারিত ছিল (তিরমিযি)।

হাসিল করার তরীকাঃ ইলম আমরা দুভাবে শিখব। ফাজায়েলে ইলম ও মাসায়েলে ইলম। ফাজায়েলে ইলম আমরা তালিমের হালকা থেকে শিখব আর মাসায়েলে ইলম আমরা হক্কানী উলামাদের নিকট থেকে জানবো। ইলমের লাভ জেনে অপর ভাইকে দাওয়াত দিব এবং সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য দোয়া করব।

যিকিরের উদ্দেশ্যঃ সর্বাবস্থায় আল্লাহর খেয়াল দিলের মধ্যে পয়দা করা।

যিকিরের লাভঃ আল্লাহ পাক কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন,
فاذكروني اذكركم
“তোমরা আমাকে স্মরন কর, আমিও তোমাদের স্মরন করবো (সূরা বাকারাহ-১৫২)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা যিকিরের শিক্ষা দেন এভাবে, “তথায় তাহাদের বাক্য হবে সুবাহানাল্লাহ; পরস্পরের সালাম হবে, আসসালামু আলাইকুম এবং তাদের শেষ বাক্য হবে আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন (ইউনুস)। যে ব্যক্তি যিকির করতে করতে জিহবাকে তর তাজা রাখবে, কিয়ামতের দিন সে হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি প্রতি নামাযের পর ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার, ‘আল্লাহু আকবার’ ৩৩ বার এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহুম লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহু আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ একবার পড়বে, তার গুনাফসমূহ সমুদ্রের ফেনা সমতুল্য হলেও তা মাফ হয়ে যায় (মুসলিম)।
যারা যিকিরে মগ্ন থাকেন তারা হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ যিকির কারীদের জন্য ফেরেস্তাদের উপর গর্ববোধ করেন। কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তি আল্লাহর আরশের ছায়াতলে থাকবে যে নির্জনে আল্লাহর যিকির করে। আমরা সুসময়ে আল্লাহকে স্মরন করবো, তাহলে বিপদে আল্লাহ আমাদের স্মরন করবেন। যিকির বেহেস্তের চারা গাছের সমতুল্য। মাছের জন্য পানি যেমন জরুরী, অন্তরের পবিত্রতার জন্য যিকির তেমন জরুরী। বেহেস্তবাসীরা ঐ সময়ের জন্য আফসোস করবে, দুনিয়াতে যে সময়টা যিকির ব্যাতীত অতিবাহিত হয়েছে। যে দিলে যিকির আছে সেই দিল জিন্দা, আর যে দিলে যিকির নাই সে দিল মুর্দা সমতুল্য। যিকিরের মজলিসে ছকিনা নামক রহমত বর্শিত হয়।

হাসিলের তরীকাঃ শ্রেষ্ট যিকির লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। উত্তম যিকির কুরআন তিলাওয়াত করা। সকাল বিকাল তিন তসবীহ আদায় করা। ‘সুবহাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (১০০ বার)। যে কোন ইসতেগফারঃ আসতাগফিরুল্লা, লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যোয়ালিমিন (১০০ বার)। দুরুদ শরীফঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উন্ময়ে ওয়া আলা আলি সাল্লিম তাসলিমা (১০০ বার)। যিকিরের লাভ জেনে সবাইকে দাওয়াত দেই ও দোয়া করি।

দ্রঃ প্রথম পর্ব সমাপান্তে আবেদন থাকবে, দ্বিতীয় পর্ব লেখাটি সম্পূর্ণ পড়বেন। আশা করি সবাই উপকৃত হবেন।

নাজমুল হাসান সাকিব
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here