Monday, June 24, 2024
No menu items!
Homeসিরাতুন নবী (সা.)সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আলোকে জুমার দিনের আমল। পর্ব ০১

সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আলোকে জুমার দিনের আমল। পর্ব ০১

সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আলোকে জুমার দিনের আমল; পর্ব ০১ :দ্বীন শিক্ষা.কম

শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিল শুক্রবার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসলমানদের জন্য জুমার দিন হলো, সাপ্তাহিক ঈদের দিন।” (ইবনে মাজাহ: ১০৯৮)

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব:
হাদীস: হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দিন সমূহের মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম আলাইহিস সালাম -কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে বেহেশতে প্রবেশ করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে বেহেশত থেকে বের করে (পৃথিবীতে পাঠিয়ে) দেওয়া হয়েছে এবং জুমার দিনই কেয়ামতত কায়েম হবে। (মুসলিম: ৮৫৪)

জুমার দিন গোসল করা:
হাদিস: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমার নামাজে যায় সে যেন গোসল করে। (বুখারি: ৮৭৭, মুসলিম: ৮৪৪)

জুমার দিন সুগন্ধি ব্যবহার ও মিসওয়াক করা:
হাদিস: হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিন যেন প্রত্যেক পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি গোসল করে, মেসওয়াক করে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করে। (বুখারি: ৮৮৮, মুসলিম: ৮৪৬)

জুমার নামাজের ফজিলত :
হাদিস: হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিন এলে ফেরেশতাগণ মসজিদের প্রত্যেক দরজায় বসে যান। তারা একের পর এক আগমনকারীর নাম লিপিবদ্ধ করেন। যখন ইমাম (মিম্বরে) বসে পড়েন তখন তারা নথিপত্র গুটিয়ে আলোচনা শোনার জন্য চলে আসেন। মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী ব্যক্তি উট দানকারীর সমতুল্য, তারপর আগমনকারী গরু দানকারীর সমতুল্য, তারপর আগমনকারী ব্যক্তি মেষ দানকারীর সমতুল্য, তারপরের জন মুরগী দানকারীর সমতুল্য, এর পরেরজন ডিম দানকারি সমতুল্য (সাওয়াব লাভ করেন)। (মুসলিম: ৮৫০)

হাদীস: হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো ভালোভাবে গোসল করল এবং নামাজের জন্য আগমন করল, সে যেন একটি উট সদকা করল। যে ব্যক্তি দ্বীতিয় পর্যায়ে আসলো, সে যেন একটি গাভি সদকা করল।তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করল, সে যেন একটি সিং বিশিষ্ট দুম্বা সদকা করল। যে চতুর্থ পর্যায় আগমন করল, সে জন্য একটি মুরগি সদকা করল। প্রঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল, সে যেন একটি ডিম সদকা করল। এরপর যখন ইমাম খুতবা প্রধানের জন্য বের হন, তখন ফেরেশতাগণ খুতবা শোনার জন্য হাজির হয়ে যান। (বুখারি: ৮৮১)

হাদীস: হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একটি লম্বা হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ইমাম খুতবা দেওয়া শুরু করলে যে ব্যক্তি চুপচাপ বসে খুতবা শোনে সে দুটি বিনিময় প্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি এত দূরে বসে যে, ইমামের খুতবা শুনতে পায় না, তবুও চুপ থাকে এবং অনর্থক কথা বা কাজ করে না, সে একটি বিনিময় প্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি এমন স্থানে বসে যেখানে থেকে ইচ্ছা করলে ইমামের খুতবা শুনতে এবং তাকে দেখতে পায়, তবুও অনর্থক কথা বা কাজ করে এবং চুপ না থাকে, সে গুনাগার হবে। হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনই বলতে শুনেছি। (আবু দাউদ: ১০৫১)

জুমার দিনে ছয়টি আমলের বিশেষ ফজিলত:
হাদীস: হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে গোসল করবে, ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে (আজানের অপেক্ষা না করে) মসজিদে যাবে, পায়ে হেঁটে যাবে, বাহনে আরোহন করবে না, ইমামের কাছাকাছি হয়ে বসবে, মনযোগ দিয়ে খুতবা শোনবে,( খুতবা চলাকালীন) কোনো কথা বলবে না বা কাজ করবে না, সে জুমার নামাজের (যাওয়া-আসার) পথে প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের নফল নামাজের সওয়াব পাবে।
(ইবনে খুযাইমা: ১৭৫৮, জামে তিরমিযী: ৪৯৬, আবু দাউদ: ৩৪৫, নাসায়ী: ১৩৮৪)

জুুমার নামাজে গোনাহ মাফ হয়:
হাদীস: হজরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার নামাজে এলো, তাওফিক অনুযায়ী নামাজ আদায় করল, ইমামের খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকল, এরপর ইমামের সাথে জুমার নামাজ আদায় করল, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী দিনসমূহ এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (মুসলিম: ৮৫৭)

হাদীস: হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজানের মধ্যকার সমস্ত গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যাবে যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়। (মুসলিম: ২৩৩)

জুমার নামাজ ত্যাগকারীর প্রতি সতর্কবাণী:
হাদীস: হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. ও হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা হুজুর সা. -কে তাঁর মিম্বরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, মানুষ যেন জুমার নামাজ ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরে মোজর এঁটে দেবেন, এরপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে। (মুসলিম: ৮৬৫)

মুফতি নাজমুল হাসান সাকিব
দাওরায়ে হাদীস: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

ইসলামি আইনি ও গবেষণা বিভাগ: আল মারকাজুল ইসলামী (AMI) বাংলাদেশ।

ই-মেইল: [email protected]

মুফতি নাজমুল হাসান সাকিব
মুফতি নাজমুল হাসান সাকিব
নাম: নাজমুল হাসান সাকিব পিতা: মুজিবুর রহমান স্থায়ী ঠিকানা: বাহেরবালী, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা: বসুন্ধরা, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯ পড়াশোনাঃ- বাহেরবালী দারুল উলূম নূমানিয়া মাদরাসা, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। (নূরানী টু হেদায়াতুন্নাহ্) জামিয়াতুস সালাম মদিনাবাগ, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। (কাফিয়া-শরহে বেকায়া) মারকাজুল উলূম আল-ইসলামিয়া মান্ডা, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। (আরবী স্নাতক ৪র্থ বর্ষ) মদিনাতুল উলূম বসুন্ধরা মাদরাসা ( হেদায়া) মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। (এম এ- মাস্টার্স) আল মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ। (ইসলামি আইন ও গবেষণা বিভাগ) পেশা: লেখালেখি ও পড়াশোনা। (ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো অধ্যায়ণরত)।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments