যাকাত আদায় প্রসঙ্গে আলোচনা।

যাকাতের সংজ্ঞাঃ যাকাত এটি আরবি শব্দ।
যার আভিধানিক অর্থ- পবিত্রতা, প্রাচুর্যতা, ক্রমবৃদ্ধি, প্রশংসা ইত্যাদি।


আর ইসলামী পরিভাষায় যাকাত সম্পদের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ কোনো অসহায় মুসলমানকে এভাবে প্রধান করা যাতে প্রধানকারীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত মাল দ্বারা কোনোরুপ ফায়দা লাভ করার অবকাশ না থাকে। যাকাত মৌলিক ভাবে একটি ফরয ইবাদত। ইসলামের পাচটি স্তম্ভের মধ্যে এটি তৃতীয় স্তম্ভ। যাকাত অসহায়, অভাবী ও অক্ষম জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দরিদ্র বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার। মুলতঃ যাকাত একদিকে দাতার মন, আত্মা ও সম্পদকে পরিশুদ্ধ করে। অন্যদিকে দারিদ্র্যের অভাব দূর করে তার সম্পদে ক্রমবৃদ্ধি করে।


আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে যেখানেই নামায কায়েমের কথা বলেছেন সাথে সাথে যাকাতের কথাও উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা’লা পবিত্র কোরআনে স্বতন্ত্রভাবে ৭বার সালাতের সাথে ২৫বার ( মোট ৭+২৫=৩২ বার) যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। নামাযের সাথে সাথে বার বার যাকাতের


এর কথা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো – নামায নামায যেমনভাবে ফরয ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তেমনিভাবে যাকাত ফরয ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত- একথা বুঝানো। কিন্তু আফসোস আজ অনকে নামায গুরুত্বের সাথে পড়লেও যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেনা।

৮ প্রাকারের লোককে যাকাত দেয়া যাবে।


০১. ফকির।
০২.মিসকীন।
০৩. ঐসব লোক যারা সদকা উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত।
০৪.( ঐসব কাফের) যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন ( এ হুকুম রহিত হয়ে গেছ)।
০৫. গোলাম আযাদ করা।
০৬. ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করা।
০৭. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কারী।
০৮. মুসাফিরদের প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য।
(সুরা তাওবা আয়াত নং- ৬০)

৮ প্রকরের লোককে যাকাত দেয়া যাবে না।


০১. পিতা-মাতা ও ঊর্ধ্বগামী।
০২. সন্তান ও নিম্নগামী।
০৩. স্বামী।
০৪. স্ত্রী।
০৫. বনু হাশিম।
০৬. অমুসলিম।
০৭. নিসাবের অধিকারী ব্যক্তি।
০৮. যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আছে।

যাকাত ফরয হওয়ার শর্ত ৭টি


০১. নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা।
০২. সম্পদের পূর্ণাঙ্গ মালিক হওয়া।
০৩. সম্পদ পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকা।
০৪. বালেগ হওয়া।
০৫. আকেল তথা জ্ঞানবান হওয়া।
০৬. মুসলিম হওয়া।
০৭. স্বাধীন হওয়া।
উল্লেখ্য যে, বাজ্যিক খামারের মৎস, খনিজ সম্পদ, গুপ্তধন, ফল ও ফসল একবছর মালিকানায় থাকা শর্ত নয়, বরং প্রাপ্তির পরই যাকা আদায় করা জরুরী।

যেসব সম্পদে যাকাত নেই


০১. নিসাবের কম।
০২.বসবাসের ঘর।
০৩.গৃহস্থলির ব্যবহার্য আসবাবপত্র।
০৪. ব্যবহারের পোষাক।
০৫. ব্যবহারের গরু, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, হাতী, মহিষ ইত্যাদি।
০৬. ব্যবহারের যানবাহন। ( বাস, টেম্পু, কার, মোটরসাইকেল ইত্যাদি)
০৭. শিল্প কারখানার যন্ত্রপাতি ( মেশিনারি)
০৮. কারখানা ( বিল্ডিং)
০৯. দোকান ঘর।
১০ ব্যবহারের শিক্ষা উপকরণ ( বই, খাতা, কলম ইত্যাদি)
উল্লেখ্য যে, এসব ছাড়াও যাকাত সংক্রান্ত আরো বহু মাসয়েল রয়েছে। সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে আমরা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবো।

{ সংগ্রহ. বিষয়ভিত্তিক কোরআন ও হাদিস}
সংকলন ও সম্পাদনাঃ
হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুর রহমান আজাদ।

খলিফা
শাইখুল হাদিস, আল্লামা মুফতী জাফর আহমাদ সাহেব দা. বা.
পীর সাহেব ঢালকা নগর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here