ইতেকাফের দশটি মাসয়ালা

মহিলাদের ইতিকাফ

ইতেকাফ মসজিদ সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ সা. মসজিদে ইতেকাফ এর নিয়তে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সারা বছরই মুসলমানের জন্য ইতেকাফের সময়। তবে রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নাত। রাসুল সা. রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। নিম্নে ইতেকাফের দশটি মাসয়ালা তুলে ধরা হলো। ভালোভাবে হেফজ করুন।

১. মসজিদ হওয়া : ইতেকাফের জন্য মসজিদ হওয়া আবশ্যক। মসজিদ ব্যতীত ইতেকাফ হয় না। যদি কেউ তার বাড়িতে বা অন্য কোথাও ইতেকাফের জন্য স্থান নির্ণয় করে তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে ইতেকাফ বলা হবে না।

২. মসজিদের সীমানা : ইতেকাফকারী শরীয়তের অনুমোদিত প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হতে পারেন না। আর মসজিদ বলতে তার পুরো সীমানাকেই ধরা হবে। চাই তা ছাদের নিচে হোক বা না হোক।

৩. সারা বছর ইতেকাফ : সারা বছর ইতেকাফ করা যায়। মসজিদে প্রবেশের সময় ইতেকাফের নিয়ত করা সুন্নাত। তবে রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ সা. ইতেকাফ করতেন। তাই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।

৪. মসজিদে অবস্থান : ইতেকাফকারী বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হবেন না। শুধু শরীয়ত অনুমোদিত প্রয়োজনেই মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন। তার অবকাশ প্রয়োজন পূরণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। যেমন, গোসল, ওজু ও ইসতেন্জার জন্য বের হতে পারবেন।

৫. জাগতিক কাজ থেকে বিরত থাকা :ইতিকাফকারীর জন্য জাগতিক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। সে মসজিদে অবস্থান কালে আল্লাহর জিকির, তেলাওয়াত ও ইবাদতে মশগুল থাকবেন।

৬. ইতেকাফের সময় : ইতেকাফের কোনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সীমা নেই। কেউ এক মুহূর্তের জন্য  ইতেকাফ করতে পারেন আবার দীর্ঘ দিনের জন্যও করতে পারেন। তবে রমজানের শেষ দশকের কথা ভিন্ন।

৭. নারীর ইতেকাফ : নারী যদি শারীরিকভাবে পবিত্র হন অর্থাৎ হায়েজ-নেফাজ না থাকে তবে তার জন্য ইতেকাফ করা বৈধ। কেননা রাসুল সা. এর স্ত্রীগণ তার সঙ্গে ইতেকাফ করেছেন বলে প্রমাণিত। তবে বর্তমান যুগের ফকিহগণ বিশৃংখলা ও মানুষের ঈমানের স্তর নেমে যাওয়ায় নারীদের ইতেকাফ থেকে নিরুৎসাহিত করেন।

৮. ইতেকাফকারীর রোজা :  ইতেকাফ ও রোজা দুটি স্বতন্ত্র ইবাদত। একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল নয়। সুতরাং কেউ রোজা না রেখে শুধু ইতেকাফ করলেও তার ইতেকাফ শুদ্ধ হবে।

৯. ইতেকাফ ভঙ্গকারী : ইতেকাফের কোনো কাজা নেই। সুতরাং কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে বা বিনা প্রয়োজনে ইতেকাফ ছেড়ে দেন, তবে তার কাজা করতে হবে না। হ্যা, ভালো কাজের নিয়ত করে তা ছেড়ে দেয়া অনুচিৎ। তাই কেউ ইতেকাফ শুরু করলে শেষ করা উত্তম।

১০. মসজিদে ইতিকাফ না হলে : প্রতিটি মহল্লার মসজিদে ইতেকাফ হওয়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদায়ে কেফায়া। যদি মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে একজনও তা আদায় করে তবে অন্যরা গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। আর কেউ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। আল্লাহ তাওফিকদাতা।

একটি আরবি প্রবন্ধের ছায়া অবলম্বনে

Previous articleকোরআন মাজীদ তেলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদাত
Next articleনাজাতের শেষ দশক; গুরুত্বপূর্ণ ৭ আমল
নামঃ- নাজমুল হাসান সাকিব বিন মুজিবুর রহমান স্থায়ী ঠিকানাঃ- বাহেরবালী, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানাঃ- বসুন্ধরা, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯ পড়াশোনাঃ- বাহেরবালী দারুল উলূম নূমানিয়া মাদরাসা, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। (নূরানী টু হেদায়াতুন্নাহ্) জামিয়াতুস সালাম মদিনাবাগ, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। (কাফিয়া-শরহে বেকায়া) মারকাজুল উলূম আল-ইসলামিয়া মান্ডা, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। আরবী স্নাতক ৪র্থ বর্ষ মদিনাতুল উলূম বসুন্ধরা মাদরাসা ( হেদায়া) মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। (এম এ- মাস্টার্স) পেশাঃ- পড়াশোনা (ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো অধ্যায়ণরত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here