Friday, July 12, 2024
No menu items!
Homeইসলামি শিষ্টাচারইসলামি শিষ্টাচার- ১ম পর্ব

ইসলামি শিষ্টাচার- ১ম পর্ব

১. দরজা বন্ধ করার নিয়মাবলী…
যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করেন অথবা কমরা হতে বের হন, তখন দরজাকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিবেন না। অথবা এমন জোরে ছেড়ে দিবেন না, যার ফলে সেটি নিজে নিজেই বিকট শব্দে বন্ধ হয়ে যায়। কেননা এটি ইসলাম যে নম্রতায় ভূষিত সেই নম্রতার পরিপন্থী কাজ; বরং দরজাটি আপনি নিঃশব্দে ধীরে-ধীরে সুন্দরভাবে বন্ধ করে দিন।
উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা রা. মহানবী সা. -এর যে উক্তি বর্ণনা করেছেন, তা হয়তো আপনি জেনে থাকবেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-

أن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه ولا ينزع من
شيء إلا شانه

অর্থ: কোনো জিনিসের মধ্যকার কোমলতা কেবল তার সৌন্দর্যকেই বৃদ্ধি করে (পক্ষান্তরে) কোনো জিনিসের মধ্যকার কঠোরতা কেবল তার সত্তাকেই কলঙ্কিত করে। (মুসলিম শরীফ ২/৩২২)

২. মুসলমানদের অভিবাদন কেমন হবে…?
যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করবেন অথবা বের হবেন, তখন ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে ঘরে যারা আছেন তাদেরকে সালাম দিন। এটা মুসলমানদের অভিবাদন। সুপ্রভাত বা স্বাগতম, গুডমর্ণিং, শুভ বিকাল এ জাতীয় কিছু বলে অভিবাদন জানাবেন না। কেননা সালামের পরিবর্তনে অন্য কিছু বলা মুসলমানদের সভ্যতা-সংস্কৃতিকে অবমাননার কারণ। অথচ এটি ইসলামের প্রতীক ও মুসলমানদের নিদর্শন যা মহানবী সা. তাঁর কথা ও কাজে প্রতিফলিত ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর খেদমতে নিয়োজিত খাদেম হজরত আনাস রা. কে এই সম্পর্কে সালাম শিক্ষা দিয়েছেন।
হজরত আনাস রা. বলেন, আমাকে রাসূল সা. বলেছেন-

وعن أنس رضي الله عنه ، قال: قال لي رسول الله صلي الله عليه وسلم : يا بني ، إذا دخلت علي أهلك ، فسلم ، يكون بركة عليك ، وعلي أهل بيتك –

অর্থাৎ, হে প্রিয় বৎস! যখন তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের নিকট গমন করবে, তখন তাদেরকে সালাম দেবে। এটি তোমার ও তোমার পরিজনদের জন্য বরকতের কারণ হবে । (তিরমিযি শরীফ 2/99)


প্রখ্যাত তায়েবী হজরত কাতাদা রহ. বলেন, যখন তুমি তোমার ঘরে প্রবেশ করো, তখন তোমার পরিবার পরিজনদের সালাম দাও । কেননা যাদেরকে তুমি সালাম দাও তাদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় তারাই তোমার সালাম পাবার অধিক উপযুক্ত ।
হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন –

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول ألله صلي الله عليه وسلم : إذا انتهي أحدكم إلي المجلس فليسلم فإذا أراد أن يقوم فليسلم فليست الأولي بالحق من الآخرة – (رواه الترمذي)

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো মজলিসে যায় তখন সে যেন সালাম দেয়। এরপর যখন সে চলে আসতে চায়, তখনও যেন সালাম দেয়। কেননা প্রথমবার সালাম দেওয়া শেষবার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর নয়। (তিরমিযি শরীফ 2/100)

৩. আপনি বাড়িতে প্রবেশ করার পূর্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করুন…
যখন আপনি বাড়িতে যাবেন তখন বাড়িতে আসার পূর্বেই বাড়িতে যারা আছে তাদেরকে আপনার আগমনের ব্যাপারে অবহিত করবেন, যাতে আপনার হঠাৎ আগমনের কারণে তারা শাঙ্কিত না হয় অথবা আপনি তাদের ব্যাপারে বিশ্বাসঘাতক অনুসন্ধানকারী ব্যক্তির ন্যায় না হন।
হজরত আবু উবাইদা আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ যখন আপন বাসগৃহে আগমন করতেন, তখন এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতেন, যার ফলে গৃহবাসী তার আগমন সম্পর্কে উপলদ্ধি করতে পারত। অনেক সময় বাড়িতে প্রবেশের পূবে তিনি উচ্চঃস্বরে কথা বলতেন, যাতে গৃহবাসীরা তার ব্যাপারে সতর্ক হয়ে যায়।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন-

إذا دخل الرجل بيته استحب له أن يتنحنح أو يحرك نعليه –

অথাৎ, যখন কেউ বাড়িতে প্রবেশ করতে চায় তখন কাশি দিয়ে বা জুতার মাধ্যমে আওয়াজ করে গৃহে অবস্থানকারীদেরকে জানিয়ে দিবে যেন সে তথায় প্রবেশ করে ।


ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমার পিতা যখন মসজিদ থেকে ঘরে ফিরতেন, তখন ঘরে প্রবেশ করার পূবে এমনভাবে পা ফেলতেন , যার ফলে ঘর থেকে তার পদধ্বনি শোনা যেত। কখনো কখনো তিনি তিনি ঘরে প্রবেশ করছেন, তা জানানোর জন্য স্ব-জোরে কাশি দিতেন।
বুখারি ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীসে হজরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত ,

عن جابر رضي الله عنه : أن النبي صلي ألله عليه وسلم نهي أن يطرق الرجل أهله ليلا –

অর্থাৎ রাসূল সা. কোনো কোনো ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনদের নিকট রাতে আগমন করতে নিষেধ করেছেন । অর্থাৎ রাতে তাদের কাছে সফর অথবা অন্য কোথাও থেকে আগমন করতে নিষেধ করেছেন, কেননা তারা তার আগমনের ব্যাপারে উদাসীন ও অন্যমনষ্ক থাকে । তাতে মনে হয় যেন সে তাদের ভুল-ত্রুটি অনুসন্ধান করছে। (সুনানে কুবরা, হাদীস নং ১০৬৭২)

চলবে…

মুফতি নাজমুল হাসান সাকিব
মুফতি নাজমুল হাসান সাকিব
নাম: নাজমুল হাসান সাকিব পিতা: মুজিবুর রহমান স্থায়ী ঠিকানা: বাহেরবালী, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা: বসুন্ধরা, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯ পড়াশোনাঃ- বাহেরবালী দারুল উলূম নূমানিয়া মাদরাসা, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ। (নূরানী টু হেদায়াতুন্নাহ্) জামিয়াতুস সালাম মদিনাবাগ, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। (কাফিয়া-শরহে বেকায়া) মারকাজুল উলূম আল-ইসলামিয়া মান্ডা, মুগদা, সবুজবাগ, ঢাকা। (আরবী স্নাতক ৪র্থ বর্ষ) মদিনাতুল উলূম বসুন্ধরা মাদরাসা ( হেদায়া) মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। (এম এ- মাস্টার্স) আল মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ। (ইসলামি আইন ও গবেষণা বিভাগ) পেশা: লেখালেখি ও পড়াশোনা। (ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো অধ্যায়ণরত)।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments